বেশি বয়সে বিয়ে বা সন্তান নিতে নিতে চাইলে স্বামী স্ত্রীকে এই নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত

0
1025

তুলনামূলক একটু বেশি বয়সে প্রথমবারের মত গর্ভধারণ করা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। বিশেষত এখনকার কেরিয়ারের কথা মাথায় রাখলে তো নয়ই। তবে এটা ঠিক যে বেশি বয়সে প্রথম গর্ভধারণ করলে ঝুঁকিটা আর পাঁচজনের থেকে অনেক বেশী থাকে।

অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত হয়ে যাওয়া, সন্তানের বৃদ্ধি ঠিক মতো না হওয়া, প্রসবে জটিলতা, মায়ের স্বাস্থ্যহানি সহ একাধিক সমস্যা দেখা বহুলাংশে।

এগুলোর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার একটিই উপায় রয়েছে, আর তা হচ্ছে এই নিয়মগুলো মেনে চলা। পরামর্শগুলো স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্যই। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিতঃ

১) প্রথমত গর্ভবতী মা-কে এড়িয়ে চলতে হবে সকল রকমের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। একই সংগে রিকশা বা মোটর সাইকেলের মতন সাধারণ বাহনও অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। এই সমস্ত বাহনের জন্য গর্ভপাত ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এই সময় মা-কে যতটা সম্ভব বেড রেস্টে রাখাই শ্রেয় এবং খুব বেশী দৌড় ঝাঁপ, পরিশ্রমের কাজ, খারাপ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা পরিহার করতে হবে।

২) গর্ভাবস্থার শুরুতেই খুব ভালো একজন পুষ্টিবিদের সংগে পরামর্শ করে একটি খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করে ফেলুন। আপনার কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে পুষ্টিবিদকে সেটা অবশ্যই জানাবেন, লুকাবেন না। তিনি এমন একটি খাদ্য তালিকা তৈরি করে দেবেন যাতে মা ও শিশু উভয়ের শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে।

৩) অতি অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকুন। কোনও ভাবেই ডাক্তারি পরামর্শ অবহেলা করবেন না।

৪) গর্ভধারণের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেই প্রসবের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাখুন। বেশী বয়সে প্রথম গর্ভধারণে প্রি ম্যাচিউর ডেলিভারি অস্বাভাবিক কিছু নয়। যে হাসপাতালে ডেলিভারি করাবেন, তাঁদের সংগে কথা বলে রাখা আবশ্যিক। জরুরি অবস্থার জন্য আম্বুলেন্সের ফোন নম্বর হাতে কাছেই জোগাড় করে রাখুন। একটি ব্যাগে মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় সবকিছু সর্বদা গুছিয়ে হাতের কাছে রাখুন। যাতে চট করে খুঁজলেই পাওয়া যায়।

৫) বেশী বয়সে গর্ভধারণে স্বাভাবিক প্রসবের চাইতে সিজার করতেই বেশী দেখা যায়। তাই সেই অনুযায়ী আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাখুন।

৬) এই সময়ে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিক যত্নবান হওয়া দরকার। মনে রাখবেন, বয়সের কারণে গর্ভধারণ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। স্ত্রীর খাওয়া দাওয়া, চলাফেরা সব দিকেই লক্ষ রাখতে হবে স্বামীকেই।

৭) স্ত্রীর যেন কোন রকম মানসিক চাপ তৈরি না হয়, মনে কষ্ট না হয় সেদিকেও বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে স্বামীকেই। গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ যে কোনও মায়ের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

৮) মায়ের এই সময়ে প্রচুর ঘুমানোর প্রয়োজনী। ঘুম যেন যথাসম্ভব আরামদায়ক ও শান্তিপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৯) সঠিক ভাবে স্ত্রী তথা মায়ের ওজন নিয়মিত বাড়ছে কিনা লক্ষ্য রাখবেন অবশ্যই। ওজন ঠিকমত বৃদ্ধি না পাবার অর্থ শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমত হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here